মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

খেলাধূলা ও বিনোদন

জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে রাঙ্গামাটি


                                    

                 জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার গৌরবোজ্জ্বল সোনালী অতীত রয়েছে।এতদঞ্চলের ক্রীড়াবিদরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিমন্ডলে তাদের দীপ্ত প্রতিভায় স্বাক্ষর রেখেছেন।

                বিংশ শতকের ষাটের দশকে অরুন কুমার চাকমা ও মারী জাতীয় ফুটবল অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাদের রয়েছে দীর্ঘ দিনের গৌরবোজ্জ্বল কৃতিত্ব। ফুটবলে অনন্য অবদানের জন্য মি. মারী ‘ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার’ লাভ করেন। তাঁদের পাশাপাশি ফুটবলে এগিয়ে এসেছেন কুমার সমিত রায়, শহীদ শুক্কুর, সমর বিজয় দেওয়ান, নন্দী, পান্না লাল, মঞ্জু, কামাল (বড়), জেরী ও রনজিত। পরবর্তীতে প্রতিভার গুণে যারা জাতীয় ফুটবলে পরিচিতি লাভ করেছেন তারা হচ্ছেন, কামাল (ছোট), নিংচাই মগ, দীল বাহাদুর, অরুন, বরুন, পরিতোষ দেওয়ান, কিংসুক দেওয়ান ওবিপ্লব মারমা। তাদের মধ্যে অনেকেই জাতীয় দলে খেলেছেন।

                অ্যাথলেটিক্স পার্বত্য চট্টগ্রামকে গৌরবের আসনে উন্নীত করেছে। এ জেলার গৌরব অরুন কুমার চাকমা এক সময় জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে বিশেষ রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। এ ইভেন্টে প্রতিভার গুণে যারা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন তারা হলেন প্রীতিরাণী চাকমা, শর্মিলা রায়, শর্মিষ্ঠা রায় ও স্বরনিকা চাকমা। এক সময় তারা সকলেই জাতীয় প্রতিযোগিতায় বিশেষ স্থান দখল করে নিয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে শর্মিলা রায়‘এশিয়ান গেম্স’, ‘এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স’ ও ‘সাফ গেম্সে’ বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। আর বাংলাদেশের প্রথম ‘জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স’ প্রতিযোগিতায় দ্রুত তম কিশোরী হবার গৌরব অর্জন করেন শর্মিষ্ঠা।

                 ব্যাডমিন্টন ইভেন্টেও অনেক প্রতিভার জন্ম দিয়েছে রাঙ্গামাটি। এ খেলায় যারা কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তারা হচ্ছেন কুমার সমিত রায়, পার্থিব রায়, আবদুল হাকিম, অলক দত্তও চন্দন দত্ত প্রমুখ। তরুনদের মধ্যে পাভেল ও রোমেল ভ্রাতৃদ্বয়, উজ্জয়নীরায় ও পান্ন চাকমা আঞ্চলিক ও জাতীয় ব্যাডমিন্টনে এ জেলার জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।

                 এছাড়া নিকট অতীতে ক্রিকেটে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন কুমার সমিত রায় ও আবদুর রশীদ প্রমুখ। কুমার সমিত রায় ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে মনট্রিলে অনুষ্ঠিত অলিস্পিক গেমসে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকার গৌরব অর্জন করেছেন। রাঙ্গামাটি জেলা হ্যান্ডবল দল ‘আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায়’ জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে এ দলটি জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এ সম্প্রতি রাঙ্গামাটির মেয়ে চম্পা চাকমা ক্রীড়া নৈপুন্যের কারণে জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে স্থান করে নিয়েছেন।

 

উপজাতীয় ক্রীড়াঙ্গন:

 

               পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের মধ্যে ‘ঘিলা খারা’ খুবই জনপ্রিয় খেলা। এ খেলা ঘিলানামক এক ধরনের গোলকৃতি বীচির সাহায্যে খেলা হয়। বিশেষ করে ‘বিজু’ উৎসবেগ্রমাঞ্চলে সারা রাতভর এ খেলা খেলতে দেখা যায়। এ খেলা কিশোর-কিশোরী ওযুবক-যুবতীরাই বেশি খেলে থাকে। অন্যান্য উপজাতিরাও এ খেলা খেলে থাকে।
 

               এ ছাড়া ‘ফোর খারা’ (দাড়িবান্ধা), ‘গুডু খারা’ (হাডুডু), ‘পত্তি খারা’ (বউচি) ‘নাদেং খারা’ ‘বলি খারা’ ইত্যাদি খেলা বেশ জনপ্রিয়। এসব খেলাধূলা এতদঞ্চলের গ্রামীন জন জীবনে বিনোদনের খোরাকও যুগিয়ে থাকে।