মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

              পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টির পর আমরা প্রায় দেড়শত বছর অতিক্রম করেছি। এ সময়ে কতিপয় মানুষের কর্ম এ অঞ্চলকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছে। তাঁদের এ অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মারণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এসব আলোকিত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রণয়ন ও এক্ষেত্রে মাপকাঠি নির্ধারণের কাজ অত্যন্ত দুরুহ। আমরা জানি, ‘জেলা তথ্য বাতায়ন’ এর ওয়েব পাতায় প্রকাশিত এ তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয়। নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও তথ্য ঘাটতির কারণে অনেকের জীবনী তুলে ধরা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে এ পাতাটি আরও সমৃদ্ধ করা হবে। নিম্নে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে যারা অবদান রেখেছেন তাঁদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্যাদি সনিড়ববেশিত করা হলো।

 

মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা, সাংসদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব

 

জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)

 

               ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি শিক্ষকতা করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে জুন্ম শিক্ষক সমিতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ছাত্র জীবনেই তিনি পাহাড়ী ছাত্র সমিতির একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য ছিলেন। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করেন। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নেতৃত্বে চিটাংগাং হিল ট্রাক্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন গঠিত হয়। ১৯৯৭০ খ্রিস্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রাম নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ছিলেন। তিনি জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের ২২ জানুয়ারী বিনাশর্তে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিক উপায়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আনুষ্ঠানিক সংলাপে জনসংহতি সমিতির পক্ষে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দের ২ ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিনি জনসংহতি সমিতির সভাপতি হিসাবে পার্বত্যচট্টগ্রাম অধিবাসীদের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর প্রদান করেন। তিনি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১২ মে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ২০০০ খ্রিস্টাব্দে গঠিত বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

দীপংকর তালুকদার, সাবেক এম.পি.

 

              ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ১২ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। উনসত্তর ও সাতাশির গণঅভ্যূত্থানে অংশগ্রহণ করে তিনি দুইবার কারাবরণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭২-৭৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্র সংসদের সদস্য এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-৭৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ইংরেজি বিভাগীয় সমিতির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি পর পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। অদ্যাবধি তিনি উক্ত পদে রয়েছেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে রাঙ্গামাটি আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্তী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালযের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ১৯৯৬ খিস্টাব্দে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিটি, সংস্থাপন মন্ত্রণালয সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় সংসদ হাউস কমিটির সদস্য ছিলেন। পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদন তাঁর বিশেষ অর্জন। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তাঁর ছদ্মনামে লেখা গ্রন্থ হচ্ছে ‘প্রসঙ্গঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম’।

 

কামিনী মোহন দেওয়ান (১৮৯০-১৯৭৬)

 

                  ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের ৮ মার্চ এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর পিতার মৃত্যুর পর এতদঞ্চলের ৬টি মৌজার শাসনভার তাঁর উপর বর্তায়। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে সর্বপ্রথম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার লক্ষ্যে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে জনসমিতি গঠন করেন। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি Hill Tracts People Organization গঠন করেন। ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের দীন সেবকের জীবন কাহিনী’ নামে তাঁর আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ রয়েছে।

 

রাজমাতা বিনীতা রয় (১৯০৭-১৯৯০)

 

                ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ১৮ আগষ্ট ইংল্যান্ডের সারেই নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি চাকমা রাজা ণরিনাক্ষ রায়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি সত্তরের দশকে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম সাময়িকী ‘গৈরিকা’ রাজবাড়ি থেকে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি একজন স্বনামধন্য কথা সাহিত্যিক। তাঁর উপন্যাস ‘অকুলে’ গৈরিকায় প্রকাশিত হয়-যা পরে ইংরেজিতে অনুদিত হয়। সাংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য তাঁকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ৭ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটির রাজভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

সুবিমল দেওয়ান (১৯১৬-২০০৯)

 

               ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে জুরাছড়ি উপজেলার চকপতিঘাটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮০ হতে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সহকারি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি চিটাগাং হিলট্রেক্টস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। সমাজ সেবায় অবদান রাখার জন্য তাঁকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা আন্দোলনে এবং স্বেচ্ছাসেবী সমাজকর্মী হিসেবে তাঁকে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। তিনি ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

কল্প রঞ্জন চাকমা

 

               ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ১৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির তারাবনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্যার আশুতোষ কলেজ হতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ন্যাপ (ভাষানী)-তে যোগদান করেন। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে যোগদান করেন আওয়মী লীগে। তিনি ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে জেলা কাউন্সিলের সদস্য এবং ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে আরবিট্রেশন কোর্ট এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে পর পর খাগড়াছড়ি আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় গঠিত হলে তিনি এ মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

 

 

বিনয় কুমার চাকমা

 

               ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ৯ মার্চ রাঙ্গামাটির বড়াদমে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি বড়াদম মৌজার হেডম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে রাঙ্গামাটি আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা নিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি হেডম্যান সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

চাইথোয়াই রোয়াজা (১৯৩০-১৯৯৪)

 

               ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর কাউখালী উপজেলার কচুখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে মেট্রিক পাশ করেন। তিনি ১৯৭০ এর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি সত্তরের অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং চট্টগ্রাম শহরে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন। তিনি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

 

মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা (১৯৩৯-১৯৮৩)

 

                ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম কলেজ হতে সমাজ কল্যাণ বিভাগে স্নাতক এবং পরবর্তীতে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে বিএড এবং ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে এল.এল.বি পাশ করেন। তিনি ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে দিঘীনালা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনে যোগদান করনে। তিনি ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে পাহাড়ি ছাত্রদের নের্তৃত্ব দিতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে পাকিস্তান সরকার গ্রেপ্তার করে। দু’বছর পর ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি কারামুক্ত হন। তিনি ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত হন। তাঁর নের্তৃত্বে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি দ্বিতীয় বারের মত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে সরকারি প্রতিনিধি হিসাবে লন্ডন সফর করেন। তিনি ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগষ্টের পর আত্মগোপন করেন। জনসংহতি সমিতির ভাতৃঘাতী সংঘর্ষে তিনি ১৯৮৩ খিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর নিহত হন।

 

সুদীপ্তা দেওয়ান

 

               ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় সংসদের মহিলা আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি রোটারী ক্লাব অব রাঙ্গামাটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ফেডারেশন কর্তৃক ২০০০ খ্রিস্টাব্দে শ্রেষ্ঠা সমাজসেবী হিসেবে এবং ২০০১ খ্রিস্টাব্দে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

পারিজাত কুসুম চাকমা

 

               ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে রাঙ্গামাটির ঝগড়াবিলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি শাহ উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং কাচালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুন তিনি পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রাঙ্গামাটি আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

 

উষাতন তালুকদার

 

                  ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ৫ আগস্ট লংগদু ছোট কাট্টলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি অনুযায়ী তিনি ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। তিনি আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা ও রেড ক্রিসেন্ট এর সাথে সম্পৃক্ত আছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে যুক্ত।

 

মনি স্বপন দেওয়ান

 

                           ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ১৮ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি ২০০১ খ্রিস্টাব্দে রাঙ্গামাটি আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী নিযুক্ত হন। এছাড়া তিনি ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে রাঙ্গামাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বেসরকারি সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি গেংখুলী শিল্পীগোষ্ঠির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।